নবম বেতন স্কেল অবিলম্বে চালুর দাবিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সরকারি কর্মচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
অবিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার (০৯ই জুন) একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
এতে বলা হয়, প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেলের নোটিফিকেশন অনুযায়ী সব গ্রেডের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ হওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান, জীবনধারণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। এছাড়াও একজন কর্মচারী বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে উন্নীত হবার পর পরবর্তী পদোন্নতি না হলে তার বেতন বৃদ্ধির আর কোনো সুযোগ নেই।
গত একযুগে ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি হওয়ায় একজন সরকারি কর্মচারীর মৌলিক চাহিদার খাদ্যসামগ্রীর মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া শিক্ষা ব্যয়, স্বাস্থ্য ব্যয় ও আনুষঙ্গিক ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন কর্মচারী রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে।
বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৮৪টি সভা ও ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুপারিশ গত ২১ জানুয়ারি সরকারের নিকট দাখিল করে। অদ্যাবধি বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কর্মচারীদের মাঝে হতাশা ও দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে।
সরকারি কর্মচারীরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের যৌক্তিক দাবির বিপক্ষে কিছু বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক মন্তব্য বিভিন্ন যোগাযোগ ও সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এক যুগ পর এসে সিপিডি বলতে চেয়েছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে তা বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে তাদের ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি ম.: নূরুল ইসলাম বলেন, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বর্তমান সরকার কার্যকর করতে খুবই আন্তরিক। তার আন্তরিক বলেই বিষয়টিতে সক্রিয় বিবেচনা করছে। এ পর্যায়ে এসে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। কর্মচারীদের দাবিকে অযৌক্তিক বা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা মোটেও কাম্য নয়। এতে কর্মচারীদের মনোবল ভেঙে পড়ে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ বছর ২০১৫ সালের পর থেকে আজ অবধি নতুন কোনো পে-স্কেল না হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বি হওয়ায় নির্দিষ্ট বেতনের সরকারি কর্মচারীরা তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য, সন্তানের শিক্ষা, জীবনধারণ, জীবনমান, বাসস্থান, যাতায়াতসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছেন, যা পূর্বের ও বর্তমানের বাজারের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান স্বাভাবিক রাখতে, নবম জাতীয় পে-স্কেল অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচিবালয়ের সর্বস্তরের কর্মজীবীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মফিজুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম
মোবাইল: 01568799577
ইমেইল : dainikchattogrameralo905@gmail.com
অফিস: মা ভবন,আল মদিনা হাউজিং সোসাইটি ,
দারুল মা আরিফ, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫