ফটিকছড়িতে তৃণমূলে ভোট বাড়লেও সমন্বয়হীনতায় ডুবেছে দাঁড়িপাল্লা
নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসনে জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এবারের নির্বাচনে জামায়াতের ভোট বাড়লেও সমন্বয়হীনতা ও উপজেলা কমিটির শীর্ষ এক নেতার অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে ভোট বৃদ্ধি করেছে। দীর্ঘ দেড় যুগের প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে অংশ নিয়ে ৬২ হাজারের বেশি ভোট পাওয়া ফটিকছড়ির ইতিহাসে জামায়াতের সর্বোচ্চ অর্জন। এটি শুধু একটি ভোটসংখ্যা নয়, বরং সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি নতুন ভিত্তি।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশ নিয়ে পেয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ভোট। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ১২ হাজার, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২২ হাজার এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রায় ১৬ হাজার ভোট পায় দলটি। সেই তুলনায় এবারের ৬২ হাজারের বেশি ভোটকে তারা “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, এবারের নির্বাচন ছিল বহুমুখী চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ। বহুমাত্রিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত ফটিকছড়িতে কওমি, সুন্নি, সংখ্যালঘু ভোটার, হেফাজত আমিরের প্রকাশ্য বিরোধিতা এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শক্ত ভোটব্যাংকের বিপরীতে জামায়াতকে এককভাবে লড়তে হয়েছে। তবে নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করেন, উত্তর ফটিকছড়িতে শেষ মুহূর্তের সমন্বয়হীনতা এবং ভোটের আগের রাতে মাঠ না ছাড়লে ফল আরও ভালো হতে পারত।
ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে কিছু অসন্তোষের কথাও শোনা যাচ্ছে। ওয়ার্ডভিত্তিক তৃণমূল নেতাদের মধ্যে দূরত্ব এবং একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের প্রভাব নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলেছে এমন অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকজন নারী সমর্থকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক নারী পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাবে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি।
সূত্রে জানা যায়, এ আসনে প্রায় ৮৮ হাজারের বেশি “না ভোট” পড়েছে। এই ভোটের বড় অংশ একটি আওয়ামী রাজনৈতিক বলয়ের ভোটারদের, যা শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গেছে। তাদের মতে, এর অর্ধেকও যদি জামায়াতের পক্ষে আসত, তবে দলটির ভোট এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারত এবং ফল ভিন্ন হতে পারত।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার বলেন, ফটিকছড়ির একটি বিশাল ভোট ব্যাংক হচ্ছে চা বাগানের শ্রমিকরা। তাদের ভোট পেতে হলে টাকা দিতে হয়। আমাদের কাছে টাকা নাই অন্যান্য দলের মতো। তাই তাদেরকে টাকা না দেওয়ায় ওই অংশের ভোট থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এছাড়া আওয়ামী লীগের ভোটগুলো আমাদের বিএনপির ঝুড়িতে পড়েছে।
সমন্বয়হীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে কোন সমন্বয়হীনতা প্রশ্নই আসেন না। যেখানে অন্যান্য দলগুলো নিজেদের মধ্যে দলাদলিতে থাকে সেখানে আমরা সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মফিজুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম
মোবাইল: 01568799577
ইমেইল : dainikchattogrameralo905@gmail.com
অফিস: মা ভবন,আল মদিনা হাউজিং সোসাইটি ,
দারুল মা আরিফ, চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫