নতুন সাজে চবি ও চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী, ১ হাজার ২শ শিক্ষক এবং ২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য একমাত্র ভরসা চবি মেডিক্যাল সেন্টার। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও আশপাশের স্থানীয় লোকজনও এখানে জরুরি স্বাস্থসেবা নেন।
একসময় এটি শিক্ষার্থীদের কাছে ‘নাপা সেন্টার’ নামে পরিচিত ছিল। নাপা আর ওমিপ্রাজল ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ মিলতো না।
সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া, জরুরি অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতো না। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ছুটতে হতো শহরে।
২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট চবি মেডিক্যাল সেন্টারে চালু হয় প্যাথলজি বিভাগ। যেখানে এখন করা যাচ্ছে সিবিসি, সিরাম বিলিরুবিন, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিরাম ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, সিরাম অ্যালবুমিন, গ্লুকোজ-সিঙ্গেল স্যাম্পল, সিরাম ক্যালসিয়াম, সি-আর-পি, এইচ-বি-এস-অ্যান্টিজেন, উইডাল টেস্ট, প্রেগন্যান্সি টেস্ট, ইউরিন ফর আর/ই, স্টুল ফর আর/ই, ডোপ টেস্ট-ফাইভ প্যারামিটার, ব্লাড গ্রুপিং অ্যান্ড আরএইচ ফ্যাক্টর সহ ২১টি পরীক্ষা।
চবি উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, চবি মেডিক্যাল সেন্টারে নতুনভাবে প্যাথলজি বিভাগ চালু করা আমাদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এখান থেকে আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২১টি গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করাতে পারছেন-যা আগে বাইরে করতে হতো। এ সেবা চালুর ফলে সংশ্লিষ্টদের সময়, অর্থ ও ঝুঁকিসহ সবকিছুর সাশ্রয় হচ্ছে। এই মেডিক্যাল সেন্টারকে মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি করার চিন্তা রয়েছে প্রশাসনের।
চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চবি মেডিক্যাল সেন্টার পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা শুধু জ্ঞানচর্চা নয়, আমাদের পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চবি প্যাথলজি বিভাগ ভবিষ্যতে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সেবা দিয়ে সমৃদ্ধ হবে, যাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার একদিন পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। এই সেন্টারে দুইজন দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগের মাধ্যমে প্যাথলজিক্যাল বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
চবি মেডিক্যাল সেন্টারের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, নতুনভাবে অনেকগুলো টেস্ট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। প্যাথলজির সেবা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলছে। আমাদের আরও অনেক কিছু সংস্কার করতে হবে। আমরা এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের আয়োজনে চবি মেডিক্যাল সেন্টারে মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। কারণ, স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে পড়াশোনা হবে না। চবি মেডিক্যালকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে, সেই অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। স্বাস্থ্যসেবা এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যসেবাসহ অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন আমাদের চবি মেডিক্যালে করা যাচ্ছে।
চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টার
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) মেডিক্যাল সেন্টার নিয়ে আছে শিক্ষার্থীদের বিস্তর অভিযোগ। রাতে তালাবদ্ধ থাকে এই মেডিক্যাল সেন্টার, জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের যেতে হয় শহরের হাসপাতালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী সপরিবারে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায়। আকস্মিক দুর্ঘটনা কিংবা হঠাৎ অসুস্থতায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসুবিধা, ওষুধ কিংবা পরামর্শ পান না কেউ।
ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা ও চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের সহযোগিতায় ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট ডায়াগনস্টিক ল্যাব চালু করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স সেবা থাকলেও তার জন্য নিতে হয় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অনুমতি। কিন্তু মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসকদের দেখা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
চুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, জরুরি অবস্থায় আমাদের টেলিমেডিসিন সেবা রয়েছে। সেখান থেকে ফোনে প্রাথমিক সেবা নিতে পারে যে কেউ। অবস্থার প্রয়োজনীয়তা বুঝে ডাক্তার তাকে অ্যাম্বুলেন্সের অনুমতি দেন।
এদিকে গত ৮ই এপ্রিল থেকে চুয়েটে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা চালু হয়েছে। এই সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের ইনচার্জ এবং উপ-ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম প্রমুখ।
উদ্বোধনকালে ভিসি অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ও মানবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়নে আমরা বিবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। এরইমধ্যে একটি নষ্ট অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের মাধ্যমে সচল করা হয়েছে। একজন মনোবিজ্ঞানীও নিয়োগ করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম আরো সহজ, গতিশীল ও উন্নত করতে ভবনটির ভার্টিক্যাল এক্সটেনশনসহ আধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি এবং আরো জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
Leave a Reply