শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফটিকছড়িতে সরকারি সহায়তায় বদলে যাচ্ছে অসহায় মানুষের জীবন, হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত মা। ফটিকছড়ির কাজীরহাটে জ্বালানি ও গোলকাঠসহ চাঁন্দের গাড়ি জব্দ, বন আইনে দুই মামলা। শিক্ষার উন্নয়নে সারা দেশে স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণ করবে সরকার : ফটিকছড়িতে সাংসদ সরোয়ার আলমগীর। ফটিকছিড়িতে পাহাড়ে খড়ের গাদার পাশ থেকে ২টি বন্দুক উদ্ধার ফটিকছড়িতে দুর্গোৎসব ঘিরে প্রস্তুতি, মহালয়ার অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির আহ্বান ফোনে এক মাসের সম্পর্ক, বাড়ি ছাড়ার ১৫ দিনের মাথায় কিশোরীর মৃত্যু অচিরেই ফটিকছড়িকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ঘোষণা করা হবে: সাংসদ সরোয়ার আলমগীর অনলাইনে তথ্যহীন ফটিকছড়ি থানা, নেই নিয়মিত কার্যক্রমের খবর। অপরাধ দমনে সাফল্য, চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ফটিকছড়ির রবিউল আলম খান মরুর ফলন ফটিকছড়ির মাটিতে, সাম্মাম চাষে বাজিমাত দুই উদ্যোক্তার
নোটিশ:
সম্মানিত ভিজিটর আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

চট্টগ্রাম জেলা বার সমিতির নির্বাচনে জামায়াত জোট ভাঙল বিএনপি- মাঠে নেই আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ১৫৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম জেলা বার সমিতির নির্বাচনে জামায়াত জোট ভাঙল বিএনপি- মাঠে নেই আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচনকে ঘিরে এবার ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা এবার আলাদা প্যানেলে অংশ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ–সমর্থিত আইনজীবীদের কোনো প্যানেল না থাকায় নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে আইনাঙ্গনে। আগামী ২১শে মে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বারের সদস্য প্রায় সাড়ে আট হাজার হলেও ভোটার নবায়ন করেছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার সদস্য। তবে নির্বাচন শুরুর আগেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়।
গত ৪ মে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিন আদালত ভবনের বার লাইব্রেরির প্রবেশমুখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
আওয়ামী লীগ–সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, তাঁদের বার লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদ বলেন, সাধারণ আইনজীবী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও তাঁদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আইনজীবী সমিতির গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু এবার সেটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এটি আইনজীবীদের জন্য কলঙ্কজনক ঘটনা।
একাধিক আইনজীবী অভিযোগ করেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য মাত্র দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়। এ সময় সাধারণ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও নানা অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, ১৩৫ বছরের পুরোনো এই আইনজীবী সমিতিতে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রওশন আরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যেকোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পেরেছেন। বাধা দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চট্টগ্রাম ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম দৈনিক চট্টগ্রামের আলো’কে বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা, হয়রানি ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। নির্ধারিত সময়ে বৈধ প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি নির্বাচন আয়োজন না করে সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনর্নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ফ্যাসিবাদী আমলের মতো নির্বাচন যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের বিপরীতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা ‘আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে একসঙ্গে নির্বাচন করতেন। সাধারণত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বিএনপিপন্থীরা পেতেন। জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের জন্য পাঁচ-ছয়টি পদ (যেমন- সহ সম্পাদক, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও সদস্য) ছেড়ে দেওয়া হতো।
তবে এবার সেই জোট ভেঙে গেছে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, প্রায় ১৭-১৮ বছর পর বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে নির্বাচন করছে। ২০০৮ সালের পর থেকে দুই দল একসঙ্গে নির্বাচন করেছে। এবার রাজনৈতিক বাস্তবতায় আলাদা প্যানেল দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ–সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দল-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ নেই। তাই তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগও নেই।
আদালতসংশ্লিষ্ট একাধিক আইনজীবী বলেন, জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তনের প্রভাব এবার চট্টগ্রাম বারের নির্বাচনেও পড়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্যানেলের অনুপস্থিতি এবং বিএনপি-জামায়াতের আলাদা নির্বাচন ভোটের হিসাব বদলে দিতে পারে। আদালত সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াত নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। সেই কারণে তারা পেশাজীবী সংগঠনগুলোতেও আলাদা অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। চট্টগ্রাম বারে সদস্যসংখ্যার একটি বড় অংশ নিজেদের সমর্থক বলেও মনে করছে দলটি। সাধারণ আইনজীবীদের অনেকে মনে করছেন, আগে বিরোধী ভোট একদিকে গেলেও এবার তা ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, তফসিল অনুযায়ী ৮ই মে মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৯ই মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১শে মে বৃহস্পতিবার।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-a0fe48ef3a144dc0fce3