শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফটিকছড়িতে সরকারি সহায়তায় বদলে যাচ্ছে অসহায় মানুষের জীবন, হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত মা। ফটিকছড়ির কাজীরহাটে জ্বালানি ও গোলকাঠসহ চাঁন্দের গাড়ি জব্দ, বন আইনে দুই মামলা। শিক্ষার উন্নয়নে সারা দেশে স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণ করবে সরকার : ফটিকছড়িতে সাংসদ সরোয়ার আলমগীর। ফটিকছিড়িতে পাহাড়ে খড়ের গাদার পাশ থেকে ২টি বন্দুক উদ্ধার ফটিকছড়িতে দুর্গোৎসব ঘিরে প্রস্তুতি, মহালয়ার অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির আহ্বান ফোনে এক মাসের সম্পর্ক, বাড়ি ছাড়ার ১৫ দিনের মাথায় কিশোরীর মৃত্যু অচিরেই ফটিকছড়িকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ঘোষণা করা হবে: সাংসদ সরোয়ার আলমগীর অনলাইনে তথ্যহীন ফটিকছড়ি থানা, নেই নিয়মিত কার্যক্রমের খবর। অপরাধ দমনে সাফল্য, চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ফটিকছড়ির রবিউল আলম খান মরুর ফলন ফটিকছড়ির মাটিতে, সাম্মাম চাষে বাজিমাত দুই উদ্যোক্তার
নোটিশ:
সম্মানিত ভিজিটর আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

চরাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা: ফটিকছড়িতে বাড়ছে মিষ্টি আলুর চাষ, লাভবান কৃষক

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

চরাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা: ফটিকছড়িতে বাড়ছে মিষ্টি আলুর চাষ, লাভবান কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা-এর বিভিন্ন চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে মিষ্টি আলুর চাষ। বিশেষ করে হালদা নদী, ফেনী নদী, ধুরুং ও সত্তাখালের উর্বর চরাঞ্চলে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে এই আবাদ। কম খরচে বেশি উৎপাদন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে মিষ্টি আলু চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফটিকছড়ি উপজেলা-এ প্রায় ৭২৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর আবাদ হয়েছে। এ বছর বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জাতের মিষ্টি আলু চাষ করেছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বারি মিষ্টি আলু-১ (হীরা), বহুল প্রচলিত বারি মিষ্টি আলু-২ (কমলা সুন্দরী), বারি মিষ্টি আলু-৪ যা উচ্চ ফলনশীল ও ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এবং বারি মিষ্টি আলু-৮ যার লাল চামড়া ও হলুদ শাঁস রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় জাতের মিষ্টি আলুও চাষ হচ্ছে চরাঞ্চলে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবু ছালেক বলেন, ফটিকছড়ির মাটির গঠন ও আবহাওয়া মিষ্টি আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই এখানকার কৃষকেরা দিন দিন এই আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এ বছর উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, মিষ্টি আলু চাষে তুলনামূলক খরচ কম হলেও ফলন ভালো হয়। ফলে কম সময়ে লাভ পাওয়া যায়। নাছির মোহাম্মদ ঘাট এলাকার মিষ্টি আলু চাষি মোঃ আলামগীর, মোঃ সোহেল ও মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, চরাঞ্চলে এই চাষের বিস্তার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। উৎপাদিত মিষ্টি আলু স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন তারা।

এদিকে স্থানীয় গৃহিণী রিফা আক্তার জানান, অনলাইনের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে মিষ্টি আলু অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-এ, ফাইবার, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক বিভিন্ন উপাদান। তাই তিনি নিয়মিত মিষ্টি আলু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে সন্তানদের খাওয়ান।

স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত মিষ্টি আলু শুধু এলাকার চাহিদাই পূরণ করছে না, বরং এখন তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পাঠানো হচ্ছে। এতে কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, সঠিক পরিকল্পনা, উন্নত জাতের ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফটিকছড়ির মিষ্টি আলু দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।

স্থানীয় কৃষকরাও এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আগামী মৌসুমে মিষ্টি আলুর আবাদ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। ফলে ফটিকছড়ির গ্রামীণ অর্থনীতিতে মিষ্টি আলুর চাষ এখন হয়ে উঠেছে নতুন আশার আলো।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-a0fe48ef3a144dc0fce3