
ফটিকছড়িতে টিকাদান জোরদার, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আশাবাদ
নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা-এ হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে জোরদার করা হয়েছে টিকাদান কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে শিশুদের টিকা দিচ্ছেন। যেসব শিশু এখনও টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার বিভিন্ন জেলায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালু করেছে। এরই অংশ হিসেবে ফটিকছড়িতে সফলভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবারও একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এতে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করছেন, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও সহজে টিকাসেবা পায়। পাশাপাশি, যেসব শিশুর হাম টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন হয়নি, তাদের দ্রুত টিকা নিতে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে।
এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে ,এখন পর্যন্ত এভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত করনে ফটিকছড়ি নেগেটিভ অবস্থায় রয়েছে।
জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎকরা জানান,উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জ্বর, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়া শিশুদের আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার ফলে সচেতনতা বেড়েছে এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকাদানে অংশ নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ফটিকছড়িসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে হামের সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব
Leave a Reply