বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফটিকছড়িতে সরকারি সহায়তায় বদলে যাচ্ছে অসহায় মানুষের জীবন, হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত মা। ফটিকছড়ির কাজীরহাটে জ্বালানি ও গোলকাঠসহ চাঁন্দের গাড়ি জব্দ, বন আইনে দুই মামলা। শিক্ষার উন্নয়নে সারা দেশে স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণ করবে সরকার : ফটিকছড়িতে সাংসদ সরোয়ার আলমগীর। ফটিকছিড়িতে পাহাড়ে খড়ের গাদার পাশ থেকে ২টি বন্দুক উদ্ধার ফটিকছড়িতে দুর্গোৎসব ঘিরে প্রস্তুতি, মহালয়ার অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির আহ্বান ফোনে এক মাসের সম্পর্ক, বাড়ি ছাড়ার ১৫ দিনের মাথায় কিশোরীর মৃত্যু অচিরেই ফটিকছড়িকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ঘোষণা করা হবে: সাংসদ সরোয়ার আলমগীর অনলাইনে তথ্যহীন ফটিকছড়ি থানা, নেই নিয়মিত কার্যক্রমের খবর। অপরাধ দমনে সাফল্য, চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ফটিকছড়ির রবিউল আলম খান মরুর ফলন ফটিকছড়ির মাটিতে, সাম্মাম চাষে বাজিমাত দুই উদ্যোক্তার
নোটিশ:
সম্মানিত ভিজিটর আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

পোনা বিক্রি পুরোদমে শুরু কোটি টাকার বাণিজ্য

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

পোনা বিক্রি পুরোদমে শুরু কোটি টাকার বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি:
মঙ্গলবার ৫ই মে থেকে পোনা বিক্রি পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারী ও মৎস কর্মকর্তারা। এরআগে সোমবার দুপুরের দিকে কিছু পরিমাণ পোনা বিক্রি হয়। এ পোনা বিক্রি প্রায় আগামী এক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবছর এপ্রিল ও মে মাসে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। এ সময়টা হালদা পাড়ের মানুষদের জন্য অনেক আনন্দের।
আগ্রহ আর উদ্দীপনার শেষ থাকে না ডিম সংগ্রহকারীদের। কখন মা-মাছ ডিম ছাড়বে সেই অপেক্ষায় থাকেন তাঁরা।
হালদাপাড়েই বেশি সময় কাটে ডিম সংগ্রহকরীদের। এখানে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ মাছের নিষিক্ত ডিম আহরণ করেন জেলেরা।
এরপর সেই ডিম কুয়াতে রেণু করা হয়। তারপর রেণু থেকে তৈরি হয় পোনা।
হালদার প্রাকৃতিক মাছের পোনা দ্রুত বড় হওয়ায় মাছ চাষিদের কাছে কদর বেশি। হালদার এই সাদা সোনা ঘিরে চলে কোটি টাকার বাণিজ্য।
এ নদী থেকে গত বৃহস্পতিবার থেকে ৩০শে এপ্রিল দিবাগত রাতে আহরিত ডিম থেকে রেণু ফোটাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ডিম আহরণকারীরা। কয়েক ঘণ্টা পর পর কুয়ার পানি পরিবর্তন করে সনাতনী পদ্ধতিতে ডিম থেকে রেণু বা পোনায় রুপান্তরিত করতে হয়।
মঙ্গলবার ৫ই মে থেকে সেই পোনা বিক্রি পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারী ও মৎস কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, প্রতি কেজি পোনার বর্তমান বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পোনার গুণগতমান, পানির পরিমাণ সব মিলিয়ে পোনার দাম আরও বাড়তি হতে পারে। এবার প্রায় ২ কোটি টাকার পোনা বাণিজ্য হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মৎস্য অধিদপ্তরের। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা হ্যাচারিগুলোতে আসা শুরু করেছেন।
জানা গেছে, নদীতে মা মাছ গত বৃহস্পতিবার ডিম ছাড়ে। সকাল ১০টার দিকে নমুনা ডিম ছাড়ে, আবার একই দিন দুপুর দেড়টা দুইটার দিকে ২য় দফা এবং রাত দুইটার দিকে পুনরায় ডিম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এবার পূর্ণিমার প্রথম জো/ তিথিতে প্রায় সাড়ে আড়াইশ নৌকায় ৫ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী ৬ হাজার কেজি ডিম আহরণ করেছেন।
বৈশাখ মাসে চলমান পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে মাছ তিন দফা ডিম ছেড়েছে। নদীর অংকুরী ঘোনা, গড়দুয়ারায় নয়াহাট, সিপাহির ঘাট, পাতাইজ্জ্যার টেক, কাগতিয়ার টেক, সোনাইর মুখ, মাছুয়াঘোনা, আজিমারঘাট, নাপিতেরঘাট, আমতুয়া কুমারখালির টেক, বারিয়াঘোনা, রমদাশমুন্সিরহাট, মদুনাঘাট প্রভৃতি এলাকায় ডিম ছাড়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। কয়দিন থেকে কাল বৈশাখীর দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, নদীতে, পাহাড়ী ঢলের প্রকোপ, অপেক্ষাকৃত শীতল পরিবেশ মাছের ডিম ছাড়ার উপযোগী। তাই উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে পূর্ণিমার জো-তে মাছ ডিম ছেড়েছে।
এদিকে হালদা নদী থেকে আহরিত ডিম থেকে হাটহাজারী অংশে মদুনাঘাট হ্যাচারি শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিকে পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তিনটি হ্যাচারিতে যথাক্রমে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত ছিল ডিম থেকে রেণু ফোটাতে। শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়োঘোনাতে ২৬ এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ সহ পাঁচশ’র অধিক ডিম সংগ্রহকারী ডিম ফোটাতে ব্যস্ত।
মৎস্য কর্মকর্তার তথ্যমতে, এক হাজার ৯২০ কেজি, মদুনাঘাট হ্যাচারিতে ৮০০ কেজি মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৯৭০ কেজি, বাড়িঘোনা মাটির কুয়াতে ৬৫০ কেজি, কামাল সদাগর ১২০ কেজি, আইডিএফ মাটির কুয়াতে ৫৯০ কেজি, এছাড়া রাউজান উপজেলার সরকারি হ্যাচারি মোবারকখীলে ৩৯০ কেজিসহ মোট ৪ হাজার ৮৫০ কেজি এবং ব্যক্তিগতভাবেও মাটির কুয়াতে কয়েকজন ডিম সংগ্রহ করেছেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবছর আইডিএফ হালদা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মোট ৯টি গ্রুপে ৪৮ জন ডিম সংগ্রহকারী ২৪টি নৌকা নিয়ে প্রায় ৫৯০ কেজি (৫৯ বালতি) ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচিং ট্যাংকে মজুত করেন। আইডিএফ হ্যাচারি ব্যবস্থাপক আশা করছেন, এবছর প্রায় ১৪ দশমিক ১৩ কেজি রেণু উৎপাদিত হবে।
হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরীয়া দৈনিক চট্টগ্রামের আলো’কে বলেন, ৩০শে এপ্রিল প্রথমবার পূর্ণিমার জো-তে তিন দফায় ৬ হাজার কেজি ডিম আহরণ করা হয়েছে। এবার আড়াইশ’ নৌকায় পাঁচ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া আরও তিনটি জো রয়েছে। আগামী ১৪ ইমে থেকে ১৯ মে শুরু হওয়া অমাবস্যার জো-তে অনুকূল পরিবেশ থাকলে কার্পজাতীয় মা মাছ আবার ডিম ছাড়াতে পারে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সালমা বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আহরিত ডিম থেকে রেণু ফোটাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ডিম আহরণকারীরা। আমাদের মৎস কর্মকর্তারাও সেখানে নিরলসভাবে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত কত কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখান থেকে কত কেজি পোনা ফোটানো হয়েছে এসব তথ্যগুলো আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে জানাবে।
তিনি আরও বলেন, হ্যাচারিতে প্রতিকেজি ১ লাখ ২০ হাজার করে পোনা বিক্রি হয়েছে। যা দেড় থেকে দুই কোটি টাকার লেনদেন ছড়িয়ে যাবে। আমরা আশাবাদী সামনের আমাবস্যা ও পূর্ণিমার জো-তে আবার ডিম পাবো।
ডিম সংগ্রহকারী রওশনগীর আলম দৈনিক চট্টগ্রামের আলো’কে বলেন, এ দুই মাস ডিম ছাড়ার ভর মৌসুম। তাই বংশ পরম্পরায় অভিজ্ঞ হালদাপাড়ের ডিম সংগ্রহকারীদের ব্যস্ততার সীমা নেই। চলছে নানান কর্মযজ্ঞ। আজ থেকে পোনা বিক্রি শুরু হয়েছে।
ডিম সংগ্রহকারী হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারার কামাল উদ্দিন বলেন, গতবছর ৩৫ বালতি ডিম আহরণ করেছিলাম। এবার মাত্র ১২ বালতি ডিম আহরণ করতে পেরেছি। সারাদেশ থেকে ক্রেতারা এখানে আসে। এবার আমেরিকা থেকে এক সিলেটি মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছে পোনার জন্য। এবার সারাদেশে হালদার পোনার সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকার কারণে পোনার দাম কেজি প্রতি ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-a0fe48ef3a144dc0fce3