
ঘাড় ব্যথা কি এক্সিকিউটিভদের রোগ
বহুজাতিক কোম্পানির অধিকর্তা আফজাল সাহেব। আজকাল প্রায়ই ঘাড়ের ব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, এটা সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিসের কারণে হয়েছে। আফজাল সাহেব জানান, সারাদিন অফিসের বাইরে তিনি কিছুই করেন না।
তার এ রোগের কারণ জানা গেল, একনাগাড়ে অনেক সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করার কারণে তার এ সমস্যা হয়েছে। আমাদের অনেকেই এ সমস্যাতে ভুগছি।
সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস
ঘাড় ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সার্ভিকাল স্পনডাইলোসিস। মেরুদণ্ডের ক্ষয় রোগ হলো স্পন্ডাইলোসিস আর মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশের ক্ষয়কে বলে সার্ভিকাল স্পন্ডাইলোসিস।
আমাদের মেরুদণ্ড গঠিত হয় হাড়, মাংসপেশি, হাড়ের জোড়া ইত্যাদি নিয়ে।
সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের কারণ
বয়স বাড়ার রোগ এটি। স্পন্ডাইলোসিসের পরিবর্তন সাধারণত শুরু হয় ৪০ বছর বয়সের পর থেকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর আগেও শুরু হয় হাড়ের ক্ষয়।
আনুপাতিক হার পুরুষ বা মহিলা রোগীদের মধ্যে প্রায় সমান।
যে পেশার মানুষের বেশি হয়
ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে কাজ করতে হয় এমন সব পেশার মানুষের এ রোগটি বেশি দেখা যায়। যেমন- শুধুমাত্র চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করা একনাগাড়ে কাজ করা এক্সিকিউটিভ, কম্পিউটারে কাজ করা ইত্যাদি। ঘাড়ে ঝাঁকুনি হয় এমন পেশা যেমন নৃত্যশিল্পী, মোটরসাইকেল বা সাইকেলে চলাচল করতে হয় এমন পেশা ইত্যাদি। রোগীদের ঘাড়ে আঘাতের ইতিহাস অনেক ক্ষেত্রে থাকে।
ঘাড় নিচু করে মোবাইল ফোনে বেশি ভিডিও বা অন্য কিছু দেখলেও অনেক ক্ষতি হয়।
উপসর্গ
ঘাড়ের ব্যথা অনেক সময় কাঁধ থেকে উপরের পিঠে, বুকে, মাথার পেছনে বা বাহু হয়ে হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ঘাড় থেকে হাতে নেমে আসা স্নায়ু বা নার্ভের ওপর চাপ পড়লে পুরো হাতেই ব্যথা হতে পারে।
সার্ভিক্যাল স্পনডাইলোসিসের সবচেয়ে মারাত্মক দিক হলো যখন স্পাইনাল কর্ডের ওপর চাপ পড়ে।
হাত-পায়ে দুর্বলতা, হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে। পায়খানা-প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে।
ঘাড় নাড়াতে গেলে ব্যথা লাগে।
ডানে-বাঁয়ে ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হয়।
ঘাড়ে স্থবিরতা লাগে বা জ্যাম মেরে ধরে থাকে।
ব্যথার সঙ্গে হতে পারে হাতে, বাহুতে ঝিনঝিনি, সিরসির, অবশ ভাব, সূচ ফোটানোর অনুভূতি এবং হাত দিয়ে কাজ করতে অসুবিধা।
লক্ষণ
ঘাড়, পিঠের ওপরের অংশ এবং বাহুতে চাপ দিলে ব্যথা অনুভূত হয়। ঘাড়ের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হয়।
অন্যান্য পরীক্ষা
রক্তের গ্লুকোজ, প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা।
বিশেষ পরীক্ষা
ঘাড়ের এমআরআই, ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি।
চিকিৎসা
১) ওষুধ- ব্যথার ওষুধ, মাংসপেশি শিথিল করার ওষুধ, দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ।
২) ফিজিওথেরাপি- ঘাড়ের টানা বা সার্ভিক্যাল ট্রাকশন, শর্ট ওয়েভ ডায়াথার্মি, ম্যাসাজ, ট্রান্সকিউটেনিয়াস ইলেকট্রিক নার্ভ স্টিমুলেশন।
পরামর্শ
শক্ত ও সমান বিছানায় এক বালিশে চিত হয়ে ঘুমাতে হবে।
ঘুমানোর সময় ঘাড়ের নিচে বালিশ দিতে হবে।
দরকার হলে বালিশ নিচে টেনে নামিয়ে ঘাড়ের নিচে নেবেন বা কম উচ্চতার বালিশ ব্যবহার করবেন।
ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে বেশিক্ষণ কাজ করা যাবে না।
কাজের জায়গায় চেয়ার-টেবিল এমনভাবে রাখবেন, যাতে ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে কাজ করতে না হয়।
ব্যথা বেশি হলে ঘাড়ে হালকা গরম সেঁক দিতে পারেন। এ সময় ঘাড়ের ব্যায়াম বেশ আরাম দেবে।
সার্ভিক্যাল কলার ব্যবহার করা হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
Leave a Reply