
চসিক মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেনের বড় ঘোষণা
বিশেষ প্রতিনিধি:
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরবাসীর জন্য দুইটি বড় ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হালিশহর এইচ ব্লকে পার্ক ও ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র এ ঘোষণা দেন।
এর মধ্যে রয়েছে- ডোর টু ডোর গৃহস্থালি ময়লা সংগ্রহে ঘরপ্রতি যে ৭০-৮০ টাকা নিচ্ছে তা আগামী ১ মার্চ থেকে নেওয়া হবে না এবং বায়েজিদ এক্সেস রোডে ৭৫০টি ফ্ল্যাট নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য তৈরি করবে চসিক।
মেয়র বলেন, ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটির জন্য ডোর টু ডোর প্রকল্প চালু করেছি।
আগামী ১ মার্চ থেকে বিনামূল্যে ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহ করা হবে। কোনো বাসা বাড়ি থেকে ৭০-৮০ টাকা নেওয়া হবে না। তবে ময়লা দিতে হবে। আমাদের ময়লা দরকার।
ময়লা দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করা হবে। আমরা ময়লাকে সম্পদে পরিণত করা হবে। দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে আমরাই প্রথম যারা ময়লা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করার উদ্যোগ নিয়েছি হালিশহরে। এখন আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডির শেষ পর্যায়ে আছি।
নগরবাসী অনেকে এই টাকা দিতে রাজি হতেন না। আবার নানা রকম অভিযোগ ছিল তাই আমরা এই টাকা নেওয়াটাই বন্ধ করে দিচ্ছি। আমাদের কর্মচারীদের সঙ্গে বর্তমান ভেন্ডরদের সমন্বয় করে দেওয়া হবে। সঙ্গে আমাদের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বায়েজিদ এক্সেস রোডে চসিক ৭৫০টি ফ্ল্যাট নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য তৈরি করবে বলে জানান।
নিজের সাফল্য তুলে ধরে মেয়র বলেন, চসিক ১৬০০ কিলোমিটার ড্রেন সার্বক্ষণিক পরিষ্কার করছে। ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আগ্রাবাদ বক্স কালভার্ট পরিষ্কার করা হয়েছে। এখনো একটি খালের কাজ চলছে। এবার বর্ষাকাল ছয় মাস স্থায়ী ছিল। ৬০টি বড় সড়কের টেন্ডার হয়েছে। দৃশ্যমান রেজাল্ট পাওয়া যাবে। আমাদের রাষ্ট্রনায়ক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছেন। আমরা চট্টগ্রামে ৩ লাখ ফ্যামিলিকে স্মার্টকার্ড দিয়েছি। ১৬ বছরে একেকটি পরিবারের কাছে ৭-৮টি কার্ড চলে গেছিল। আমরা শৃঙ্খলায় এনেছি। আমাদের সচ্ছল নেতাদেরও কার্ড দিইনি। কেউ জোর করে নিতে চাইলে ব্যবস্থা নিয়েছি। স্কুল হেলথ কার্ড আমাদের নতুন সংযোজন। ৫০ শতাংশ ছাড়ে রোগ নিরূপণ ও চিকিৎসা পাবে ছাত্র ও পরিবার। ১০ লাখ বাচ্চাকে টাইফয়েড টিকা দিয়েছি। জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী টিকা দিয়েছি ছাত্রীদের। কুকুর নিধন নয় আমরা ১২ হাজার কুকুরকে ভ্যাকসিনের আওতায় এনেছি। যাতে কেউ জলাতঙ্কে আক্রান্ত না হয়।
মেয়র বলেন, গত ১৬ বছরে সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করেছে। তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে না পারলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। মাঠভিত্তিক ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড কিশোর অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা অপরিহার্য। সুস্থ দেহে সুস্থ মন গড়ে ওঠে। এই দর্শন বাস্তবায়নে নগরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মহসিন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্কুল মাঠ, বহুরূপী মাঠ, আকবর শাহ এলাকার ফিরোজশাহ মাঠ, আগ্রাবাদ শিশুপার্ক সংলগ্ন জাম্বুরি মাঠ এবং হালিশহর বিডিআর মাঠ উন্নয়ন বা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে।
মেয়র জানান, ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডস্থ হালিশহর এইচ ব্লক আবাসিক এলাকা মাঠের উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার বর্গফুট মাঠের চারদিকে ৭ ফুট প্রশস্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ওয়াকওয়ের পাশে ৫ ফুট প্রশস্ত দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠ এলাকায় ১৩২টি গার্ডেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
বাগানের ফাঁকে ৪৪টি বিশ্রাম বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ২৬৪ জন বসতে পারবেন। ২২ হাজার ৫০০ বর্গফুট আধুনিক সবুজ খেলার মাঠ, ৩ হাজার ৭৫০ বর্গফুট ইনডোর সুবিধা (টেনিস, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি), ৩ হাজার ৩৭৫ বর্গফুট কিডস জোন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বায়ু চলাচল উপযোগী দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
এরপর মেয়র ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডস্থ হালিশহর এসি মসজিদ থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও গড়ে ৩৫ ফুট প্রশস্ত সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন। রাস্তার উভয় পাশে ৪ থেকে ৫ ফুট প্রশস্ত স্ল্যাবসহ নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৭ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত বাগানসমৃদ্ধ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, যা পথচারীদের চলাচলকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করবে।
এ ছাড়া, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডস্থ মহেশখালের ওপর প্রায় ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩ দশমিক ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থের একটি সেতুর উদ্বোধন করেন মেয়র। সেতুর উভয় পাশে এপ্রোচ রোড, দৃষ্টিনন্দন ও নিরাপত্তা রেলিং এবং পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ মিটার প্রস্থের কার্পেটিং রোড, ৩০০ মিটার আরসিসি রোড, ৪৭৫ মিটার ফুটপাত, বিজিবি অফিসের সামনে ৩৫২ মিটার দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল, ১২০টি লাইট এবং ৬২ মিটার আরসিসি প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, এ সেতু চালু হওয়ায় দুই ওয়ার্ডের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি আসবে। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে চলবে। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নই সিটি করপোরেশনের প্রধান লক্ষ্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, তাসমিয়া তাহসিন, সহকারী প্রকৌশলী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
Leave a Reply