
ফটিকছড়িতে তরমুজের বাম্পার ফলন,
এবার ভোগের পালা
নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার উর্বর মাটিতে চার মাস ধরে তরমুজ চাষের পরিচর্যার পর এবার ফসল ঘরে তোলার সময়। এ বছর উপজেলার মোট ৪৭ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের ২৭ হেক্টরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কৃষকেরা আশাবাদী, এই বাম্পার ফলন স্থানীয় বাজারে তরমুজের সরবরাহ বাড়াবে এবং আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষকেরা জানিয়েছেন, এ বছর ট্রপিল, বাংলালিংক, গ্রামীণ গ্লোরি, পাকিজা এবং আহবাওয়া জাতের তরমুজের চাষ করা হয়েছে। ভালো পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায়, প্রতি হেক্টর ৪০-৪৫ টন ফলন আশা করা হচ্ছে। রোসাংগিরী গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ বেলাল বলেন, “মাটির উর্বরতা, সময়মতো সেচ ও সার ব্যবহার, এবং নিয়মিত যত্নের ফলে এবার আমরা প্রচুর তরমুজের আশা করছি। আশা করছি, বাজারে মানসম্পন্ন ও মিষ্টি তরমুজ সরবরাহ করতে পারব।” গত কয়েক বছরে ফটিকছড়ি অঞ্চলে তরমুজ চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক জানিয়েছেন, “মাটির উর্বরতা, পর্যাপ্ত জলবায়ু এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের কারণে এই অঞ্চলে তরমুজ চাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের সফল চাষ কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” এই বাম্পার ফলন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খুচরা বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাজারে প্রচুর পরিমাণ তরমুজ সরবরাহ হলে স্থানীয় ক্রেতারা সুলভ মূল্যে মিষ্টি ও রসালো তরমুজ ভোগ করতে পারবে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বাম্পার ফলন ধরে রাখতে নিয়মিত সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফসলের গুণমান ও আকারের দিক থেকে এই বছর চাষীরা সন্তুষ্ট। তারা আশা করছেন, আগামী বছর আরও আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বীজ ব্যবহার করে ফলনের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। ফটিকছড়িতে এ ধরনের সফল চাষ প্রমাণ করে যে, স্থানীয় কৃষি সম্ভাবনাময় এবং সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে চাষীরা ভালো ফলন ও অর্থনৈতিক লাভ অর্জন করতে পারেন।
Leave a Reply