চীন থেকে আমদানিকৃত ৩০ মিলিয়ন ডলারের ৪টি অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন নিয়ে পিসিটিতে (পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল) ভিড়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের প্রথম বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালিত বন্দর টার্মিনাল পিসিটির জন্য এসেছে ৪টি অত্যাধুনিক কি গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি)। চীন থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারে সংগ্রহ করা ৪টি শিপ টু শোর কিউসিজি নিয়ে আসা বিশেষায়িত ডেক জাহাজ ‘LAN HAI HONG YUN’ শুক্রবার (১৯শে জুন) সন্ধ্যায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে ভিড়েছে।
এর জন্য বন্দরের দুইজন অভিজ্ঞ পাইলট এবং তিনটি শক্তিশালী টাগবোট নিয়োজিত ছিল।
বিষয়টি পিসিটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সৌদি আরব ভিত্তিক বেসরকারি টার্মিনাল অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা দৈনিক চট্টগ্রামের আলো’কে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর কিউজিসি নিয়ে আসা জাহাজটি থেকে আনলোডকালীন কর্ণফুলী চ্যানেলে পিসিটি সংলগ্ন এলাকায় সব বাণিজ্যিক জাহাজ ও কোস্টার, ট্যাংকার, ফিশিং ট্রলার চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে পিসিটি জেটি থেকে কমপক্ষে ১০০ মিটার পূর্ব তীর ঘেঁষে চলাচলের জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি এবং এনসিটির জন্য কিউজিসি আনার অভিজ্ঞতা থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ বহির্নোঙর থেকে বিশেষায়িত জাহাজটি সহজে পিসিটিতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দ্রুততম সময়ে এবং নিরাপদে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামাতে বা জাহাজে তুলতে কিউজিসি সবচেয়ে আধুনিক। কিউজিসি না থাকলে নিজস্ব ক্রেন নেই এমন জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস করা যায় না কিংবা ঝুঁকির।
কিউজিসি সরবরাহের আদেশ দেওয়ার পর তৈরি করতে এক বছরের বেশি সময় লাগে। পিসিটিতে কিউজিসি যুক্ত হচ্ছে এটি নিঃসন্দেহে মেরিটাইম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক দিক। কিউজিসি আনলোড করার পর অপারেশনাল করতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে।
সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে ৪টি কিউজিসি কেনার চুক্তি করে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেকানিক্যাল ম্যানেজার আলতাফুল আজম, প্রকৌশল বিভাগের প্রধান (আরএসজিটি চট্টগ্রাম) ফেরদৌস রহমান, টেকনিক্যাল প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান (আরএসজিটি জেদ্দা) কোয়ান হি. হান, আরএসজিটি চট্টগ্রাম সিইও অ্যারউইন হেইজ, সানি-এর জেনারেল ম্যানেজার চেন জিং, বিদেশী বিক্রয় বিভাগের জিএম ট্যাং ওয়েইবিন, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস ডিন এলভি গুওজেন, মেনা-এর ডেপুটি জিএম টং লিচাও।
অত্যাধুনিক ক্রেনগুলোর আরএসজিটি বাংলাদেশের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ’এস (২০ ফুট হিসেবে) থেকে ৬ লাখ টিইইউ’এসে বাড়বে যা এর পরিচালনার দক্ষতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং লজিস্টিক খরচ কমিয়ে দেবে। এর আগে ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি) সংগ্রহে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে আরএসজিটি।
১ হাজার ২০০ কোটি টাকায় পিসিটি তৈরি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। চুক্তি অনুযায়ী সেই টার্মিনালে যন্ত্রপাতি কিনে পরিচালনা করছে রেড সি। তারই অংশ হিসেবে কিউজিসি আসছে পিসিটিতে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ ওঠানামা নিরাপদ রাখতে পিসিটির তিনটি জেটির একটিতে উচ্চতাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বাকি দুটি জেটিতে বসানো হবে চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে পিসিটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর মেয়াদি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল পিসিটির আধুনিকায়ন, গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা। চুক্তির শুরুতে কনসেশন ফি ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বন্দরকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে পিসিটিতে কনটেইনার উঠানামা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ আমদানি পণ্যের কনটেইনার। ১৯ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার।”বর্তমানে পিসিটিতে প্রতিমাসে ১১-১২টি কনটেইনারবাহী জাহাজ ভিড়ছে। কিউজিসি (Quay Gantry Crane) পুরোদমে চালু হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জাহাজের সংখ্যা ও কনটেইনার হ্যান্ডেল করা পিসিটির পক্ষে সম্ভব হবে।
Leave a Reply