শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সমৃদ্ধ ফটিকছড়ি গড়তে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ বিদ্যুৎসহ প্রতিটি খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে : এমপি সরোয়ার আলমগীর। ফটিকছড়িতে প্রবারণা পূর্ণিমায় বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে এমপি সরোয়ার আলমগীর। ফটিকছড়িতে জঙ্গল থেকে জীবিত নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তি। ২০ ধরে অবহেলিত ফটিকছড়ির পাইন্দং: বেহাল সড়ক ও কাঁচা পথে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী। ফটিকছড়িতে বিএনপির চার ইউনিট ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এমপি সরোয়ার আলমগীরের মতবিনিময়। উপজেলা ফটিকছড়িতে সরকারি জমি দখলে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ। ফটিকছড়িতে অবৈধভাবে টিলা কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। দুর্গোৎসবের আনন্দে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ফটিকছড়ির পূজামণ্ডপে এমপি সরোয়ার আলমগীর। ফটিকছড়িতে সরকারি সহায়তায় বদলে যাচ্ছে অসহায় মানুষের জীবন, হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত মা। ফটিকছড়ির কাজীরহাটে জ্বালানি ও গোলকাঠসহ চাঁন্দের গাড়ি জব্দ, বন আইনে দুই মামলা।
নোটিশ:
সম্মানিত ভিজিটর আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

২০ ধরে অবহেলিত ফটিকছড়ির পাইন্দং: বেহাল সড়ক ও কাঁচা পথে চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী।

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। উপজেলার এই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও ইটের সলিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কাঁচা মাটির রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
বিশেষ করে পাইন্দং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সড়কগুলোর সবচেয়ে করুণ দশা দেখা গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলামের অভিযোগ, বিগত দুই বছর ধরে তাঁর ওয়ার্ডে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করেও সড়ক সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কের বেহাল চিত্র:
• খেজুরতলা জহুর মেম্বারের বাড়ির সড়ক: এনকে ব্রিকসের উত্তর পাশের এই সড়কে প্রায় ১৫ বছর আগে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। সড়কটির প্রায় ৩০০ ফুট অংশ এখনো সম্পূর্ণ কাঁচা মাটির রাস্তা। এছাড়া ব্রিকফিল্ড থেকে নামার মুখে ২০০ ফুট অংশের পুরোনো সলিং ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই সড়কটি সম্পূর্ণ অবহেলিত।
• বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল ভৌমিকের বাড়ির সড়ক: ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরের এই সংযোগ সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩০০ ফুট। স্বাধীনতার পর থেকে সড়কটি কাঁচা অবস্থায় পড়ে আছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক কাঁচা থাকায় এলাকাবাসী এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না।
• হযরত আব্দুল মালেক শাহ সংযোগ সড়ক: ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশ দিয়ে হেয়াকোঁ সড়ক থেকে যুক্ত হওয়া এই দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির ইটের সলিং উঠে গিয়ে বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা এই ভাঙা পথেই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
• উত্তর হাইদছকিয়া বজলুর রহমানের বাড়ি থেকে চাঁন গাজী মসজিদ সড়ক: প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ এই সড়কটিও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কাঁচা মাটির রাস্তা হিসেবেই রয়ে গেছে।
• সেবাখোলা থেকে কারণ সিকদার বাড়ির সড়ক: পেলাগাজী দিঘী-হেয়াকোঁ সড়কের সংযোগস্থল থেকে যাওয়া এই সড়কটি গত ২০ বছর ধরে সংস্কারহীন। ইট উঠে গিয়ে রাস্তাটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী।
• অন্যান্য কাঁচা ও ভাঙা রাস্তা: জহুর মেম্বারের বাড়ি থেকে আলী আহমেদের বাড়ির ৪০০ মিটার রাস্তা সম্পূর্ণ কাঁচা। এছাড়া উত্তর হাইদছকিয়ায় নেভি ফজলুল করিমের বাড়ির সড়ক এবং চৌকিদার শফির বাড়ির সড়কটি খানাখন্দ ও গর্তে জর্জরিত, যা যাতায়াতকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি সড়কই বেহাল। নেভি ফজলুল করিমের বাড়ির সড়কটি এতটাই অবহেলিত যে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চৌকিদার শফির বাড়ির সড়কের গর্তের কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিন্তু গত দুই বছরে আমি কোনো বরাদ্দই পাইনি।”
এই বৈষম্যের বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, সব ওয়ার্ডেই সমানভাবে কাজ হওয়া উচিত। ইউনিয়ন ভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়ার সময় সব ওয়ার্ডের সমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয় এবং চেয়ারম্যানদেরও এটি সমন্বয় করার কথা। কোনো ওয়ার্ড পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই, আর যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে তা মোটেও ঠিক হয়নি।
পাইন্দং ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সরেজমিনে সড়কগুলোর অবস্থা পরিদর্শন করে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দিয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের অবসান ঘটায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-a0fe48ef3a144dc0fce3