বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ফটিকছড়িতে সরকারি সহায়তায় বদলে যাচ্ছে অসহায় মানুষের জীবন, হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত মা। ফটিকছড়ির কাজীরহাটে জ্বালানি ও গোলকাঠসহ চাঁন্দের গাড়ি জব্দ, বন আইনে দুই মামলা। শিক্ষার উন্নয়নে সারা দেশে স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণ করবে সরকার : ফটিকছড়িতে সাংসদ সরোয়ার আলমগীর। ফটিকছিড়িতে পাহাড়ে খড়ের গাদার পাশ থেকে ২টি বন্দুক উদ্ধার ফটিকছড়িতে দুর্গোৎসব ঘিরে প্রস্তুতি, মহালয়ার অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির আহ্বান ফোনে এক মাসের সম্পর্ক, বাড়ি ছাড়ার ১৫ দিনের মাথায় কিশোরীর মৃত্যু অচিরেই ফটিকছড়িকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ঘোষণা করা হবে: সাংসদ সরোয়ার আলমগীর অনলাইনে তথ্যহীন ফটিকছড়ি থানা, নেই নিয়মিত কার্যক্রমের খবর। অপরাধ দমনে সাফল্য, চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি ফটিকছড়ির রবিউল আলম খান মরুর ফলন ফটিকছড়ির মাটিতে, সাম্মাম চাষে বাজিমাত দুই উদ্যোক্তার
নোটিশ:
সম্মানিত ভিজিটর আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

তীব্র গরমে হাঁপিয়ে ওঠা নগরজীবনে ক্ষণিকের স্বস্তি এনে দেয় “কচি তাল”

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ১৭১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

তীব্র গরমে হাঁপিয়ে ওঠা নগরজীবনে ক্ষণিকের স্বস্তি এনে দেয় “কচি তাল”

বিশেয প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের দহনজ্বালা যখন চারদিকে ক্লান্তির ছাপ ফেলে, তখন মৌসুমি ফলের ডালা সাজিয়ে আসে কচি তাল। অন্যান্য রসালো ফলের ভিড়ে কিছুটা আড়ালেই থাকলেও, গরমে এর শীতল স্বাদ ও কদর যেন অতুলনীয়।
সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে কচি তাল এখন চট্টগ্রামের নগরজীবনে এক পরিচিত মৌসুমি ফল হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরলেই চোখে পড়ে ভ্যানগাড়ি, অস্থায়ী দোকান কিংবা সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা কচি তাল।
পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এ ফলের বেচাকেনা। নগরের ফলমন্ডি ঘিরে পাইকারি বাজার থেকে তাল সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতারা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন।
ফলে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই থাকছে মৌসুমি এই ফল।
চট্টগ্রামের বাজারে তালের বড় একটি অংশ আসে কুমিল্লা, চাঁদপুর, সাতক্ষীরা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে।
এর মধ্যে কুমিল্লার তাল বড় আকারের হওয়ায় বেশি আকর্ষণীয় বলে ধরা হয়। চাঁদপুরের তাল মিষ্টতা ও কোমল শাঁসের জন্য ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার তালও এখন বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।
তালের দাম নির্ভর করে মূলত আকার, শাঁসের পরিমাণ এবং গুণগত মানের ওপর। বড় আকারের তাল তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হয়, মাঝারি ও ছোট তাল কম দামে পাওয়া যায়। পাইকারি বাজারে নির্দিষ্ট সংখ্যার স্তূপ ধরে কেনাবেচা হলেও খুচরা পর্যায়ে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়ে যায়। তারপরও গরমের মৌসুমে তালকে সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় ফল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এই মৌসুমকে ঘিরে শুধু ফলের বাজার নয়, গড়ে উঠছে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগও। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা ভিন্ন পেশায় যুক্ত মানুষ অতিরিক্ত লাভের আশায় অল্প সময়ের জন্য তালের ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। কেউ মাছ বিক্রি, কেউ সবজি বা অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসার পাশাপাশি মৌসুমি ফল বিক্রিতে যুক্ত হয়ে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজছেন। এতে নগরের নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য সাময়িক হলেও অর্থনৈতিক স্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে আষাঢ়-শ্রাবণের হাওয়ায় রূপ নেয় পাকা ও সুমিষ্ট তালে। তখন তাল শুধু আর ফল থাকে না, হয়ে ওঠে গ্রামীণ উৎসবের অনুষঙ্গ। কচি শাঁসের জায়গা দখল করে তালের রসে তৈরি রকমারি পিঠা, পায়েস ও বড়া। বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে এই মৌসুমি ফলটির গুরুত্ব তাই অপরিসীম।
শহুরে কোলাহল আর গরমে ক্লান্ত চট্টগ্রামের মানুষের জন্য এক দারুণ আশীর্বাদ কচি তাল। মৌসুমি ফলের ভিড়ে খুব বেশি প্রচার না পেলেও, সুমিষ্ট ও সতেজ এই ফলের কদর দিন দিন বাড়ছে। একইসঙ্গে এটি অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীর জন্য আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jp-a0fe48ef3a144dc0fce3